Home Page
Current Issue
Archive
Travel Plans
Trekking Routemap
Tips
Explore
Rail
Air travel
Other Websites

Feedback




hit counters
hit counter

ইউ.এস.এ.

(UNITED STATES OF AMERICA)

 

নিউইয়র্ক (New York)

বিশ্বে পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতীক যে শহরটা তার নাম নিউইয়র্ক। বিশাল বিশাল গগনচুম্বী অট্টালিকা যেন একে অপরের সঙ্গে রেষারেষি করছে। শহর জুড়ে যত অট্টালিকা আছে সবই প্রায় দেখার মতো। রয়েছে ১০-১১ তলা বিল্ডিং থেকে পৃথিবীর অন্যতম উঁচু বিল্ডিং এম্পেয়ার স্টেট বিল্ডিং (Empire State Building)। এই বিল্ডিংটিতেই তো কিংকং উঠে বসেছিল। যে মানিকজোড় বিল্ডিং দুটি পৃথিবীর সর্ব্বোচ্চ হিসাবে পরিচয় দিত, সেই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (World Trade center) -এর স্মৃতিস্থল এখন গ্রাউন্ড জিরো’ (Ground Zero) নামে পরিচিত।  ‘স্পাইডার ম্যান’ যে নিউজ চ্যানেলে কাজ করত মনে আছে? হ্যাঁ, সেই ফ্লাটিরন  বিল্ডিংটি (Flatiron Building)-ও এখানেই। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ফিনান্সিয়াল সেন্টার (World Financial center), নিউ ইয়র্ক এক্সচেঞ্জ (New York Stock Exchange), ডাকোটা বিল্ডিং (Dakota Building) (জন লেনন এখানেই থাকতেন) ইত্যাদি অনেক বিল্ডিংই দ্রষ্টব্য। মনে পড়বে হলিউড মুভিতে দেখা বিল্ডিংগুলোর কথা। তাই যাওয়ার আগে ‘স্পাইডার ম্যান’, ‘কিংকং’, ‘এক্স-মে­ন’ সিনেমাগুলো একবার দেখে গেলে আরও ভালো লাগবে।
যখন জন লেননে এসে পৌঁছেছি তখন একটু সেন্ট্রাল পার্ক (Central Park) - কথা বলি। এটি ৮৪৩ একর জুড়ে অবস্থিত একটি বনানী। এখানে ‘স্ট্রবেরি ফিল্ড’-এ (Strawberry Fields) আছে জন লেননের সুবিখ্যাত ইমাজিন মোজাইক (Imagine Mosaic)। সেন্ট্রাল পার্কের মধ্যেই আছে ছোট একটি চিড়িয়াখানা। আছে বোটিং কমপ্লেক্স। রিমোট নিয়ন্ত্রিত খেলনা নৌকা ভাড়া করে বাচ্চারা খেলতে পারে। বেশ মজা পাবে। সুন্দরীরা বিকিনি পরে সান বাথ নিচ্ছেন। বিনা অনুমতিতে কারও ছবি তুলবেন না যেন!
এবারে আসি শহরের প্রাণকেন্দ্র -নিউ ইয়র্কের ধর্মতলা - টাইমস্ স্কোয়ার (Times Square)।এখানে রয়েছে বিনোদনের বিপুল আয়োজন। এলাকাটি থিয়েটার ডিস্ট্রিক্ট (Theatre District) নামেও পরিচিত। আছে মাদাম ত্যুসো-র ওয়াক্স মিউজিয়াম (Wax Museum of Madame Tussauds), যেখানে পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের মোমের পুতুল রাখা আছে। তবে দেখলে মনে হবে একেবারে আসল। পাশেই আছে রিপ্লিস বিলিভ ইট অর নট (Ripley’s Believe It or Not) যা এম. টিভির দৌলতে অনেকের কাছেই পরিচিত। এখানে রয়েছে পৃথিবীর আজব সব জিনিস - মহিলার মুখে গোঁফ-দাড়ি, একটা মানুষের দুটো মাথা! আছে অসংখ্য থিয়েটার, বার, জেন্টেলম্যান্স ক্লাব, লেডিস ক্লাব। শেষের দুটি কেবলমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। এসব জায়গায় ঢোকার আগে খরচ সম্পর্কে সবকিছু জেনে নেওয়া ভালো।
এবার যাব পৃথিবী বিখ্যাত স্ট্যাচু অব লিবার্টি (Statue of Liberty) দেখতে। এই স্ট্যাচুটি লিবার্টি আইল্যান্ডে(Liberty Island) অবস্থিত। যাওয়ার জন্য রয়েছে ফেরি সার্ভিস ব্যবস্থা। আর সেটা আছে ব্যাটারী পার্ক (Battery Park)-এ। এই স্ট্যাচুর পাদদেশ ও মুকুট (ক্রাউন)-এ ওঠার ব্যবস্থা আছে। তবে তার জন্য ইন্টারনেটে (www.nps.gcv) ১৫ দিন আগে বুকিং করতে হবে। এছাড়াও শহর ঘুরে দেখার জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া পাওয়া যায়। রাতের শহর খুবই মোহময়ী। তবে সাবধানের মার নেই।
বিশেষ দ্রষ্টব্য স্থানঃ- ১। টাইমস্ স্কোয়ার ২। এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং ৩। স্ট্যাচু অব লিবার্টি ৪। গ্রাউন্ড জিরো (ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার) ৫। নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ ৬। ওয়ার্ল্ড ফিনান্সিয়াল সেন্টার ৭। ডাকোটা বিল্ডিং  ৮। সেন্ট্রাল পার্ক ৯। ফ্লাটিরন বিল্ডিং ১০। রক্‌ফেলা সেন্টার(Rockefeller Center) ১১। মাদাম ত্যুসো ওয়াক্স মিউজিয়াম ১২। রিপ্লিস্ বিলিভ ইট অর নট ১৩। এলিস আইল্যান্ড(Ellis Island) ১৪। স্ট্রবেরি ফিল্ড (জন লেনন ‘ইমাজিন আর্ট’)।
এছাড়াও দর্শণীয় ওয়াল স্ট্রিট (Wall Street) (আসলে নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ যাওয়া মানেই এখানে যাওয়া), মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অব আর্ট (Metropolitan Museum of Art), আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি (American Museum of Natural History), ওয়াশিংটন ব্রিজ (George Washington Bridge),  ব্রুকলিন ব্রিজ (Brooklyn Bridge) (এয়ারপোর্ট থেকে আসা যাওয়ার পথেই পড়বে), সেন্ট পলস্ চ্যাপেল (St. Paul’s Chapel), ট্রিনিটি চার্চ (Trinity Church), সেন্ট প্যাট্রিক ক্যাথিড্রাল (St. Patrick’s Cathedral), ফেডেরাল হল (Federal Hall), ম্যাসিডন স্কোয়ার পার্ক (Madison Square Garden), ইউ.এস. কাস্টমস্ বিল্ডিং (U.S. Custom House), ফিফথ্ অ্যাভিনিউ (Fifth Avenue)।
যাওয়াঃ- বিশ্বের নানান দেশ থেকে নিউ ইয়র্কের উড়ান রয়েছে। নিউ ইয়র্ক এয়ারপোর্টে নেমে নিজের ব্যাগেজ সংগ্রহ করুন। এক্সিট গেটের বাইরেই গ্রাউন্ড ট্রান্সপোর্টেশন হেল্প ডেক্স পাবেন। ওখানে আপনার হোটেলের ঠিকানা দিলে ওরাই গাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে। অযথা প্রলোভনে পা দেবেন না। অনেক ট্যাক্সিওয়ালা পাবেন যারা কম দামে নিয়ে যাব বলে, কিন্তু পরে অনেক বেশি নেয়।
শহরে ঘোরার জন্য হোটেল থেকে গাইডেড প্যাকেজ ট্যুর (www.onboardnewyorktours.com )-এর বুকিং করতে পারেন। পছন্দসই প্যাকেজ বেছে নিতে পারেন। তবে সব থেকে ভালো হবে একদিনের প্যাকেজ। এতে শহরের খ্যাতনামা স্পটগুলো দেখানো হয়। অথবা ‘হাফ অন-হাফ অফ’ বাস সার্ভিস পাবেন অর্থাৎ ধরুন আপনি বাসে চড়ে ‘সেন্ট্রাল পার্ক’ গেলেন। আপনাকে নামিয়ে বাস চলে যাবে পরের গন্তব্যে। আপনি পার্ক ঘুরে এসে পরের বাস (অবশ্যই এক কোম্পানির) ধরে চলে গেলেন ‘গ্রাউন্ড জিরো’। গোটা শহর জুড়ে এই বাসগুলো চলতে থাকে। আপনি যে কোনও বাসে যতবার খুশি যেখানে খুশি যেতে পারেন একই টিকিট-এ। এর সম্বন্ধে বিশদ জানতে হলে খুলুন www.newyorksightsceing.com গ্রে-লাইন বাসের জন্য, www.citysightsny.com  সিটি সাইস্‌ এন ওয়াই বাসের জন্য। ভালো হয় যদি প্রথম দিন যে কোনও প্যাকেজ ট্যুর নিয়ে শহরটা ঘুরে দেখেন। পরের দিন পায়ে হেঁটে ভালোলাগা জায়গাগুলো আবার দেখুন বা অন্য জায়গা দেখুন। এতে শহরটাকে ভালোভাবে দেখতে পাবেন। খুঁজে পেতে পারেন অজানা তথ্যও।
থাকাঃ- নিউ ইয়র্কে অনেক হোটেল আছে। ওয়েবসাইট থেকে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই হোটেল। সব থেকে ভালো হয় যদি ‘টাইমস্ স্কোয়ারের’ কাছে হোটেল নেন। এতে হোটেল ভাড়া বেশি হলেও ট্যাক্সি ভাড়া বা যাতায়াত খরচ কম হয়। যেহেতু টাইমস্ স্কোয়ারেই পাবেন রেস্টুরেন্ট, বিভিন্ন দোকান, বিনোদনের সবকিছু, সেহেতু আপনাকে বার বার এখানে আসতে হবে।
উল্লেখযোগ্য হোটেল ‘হিলটন হোটেলস্’ গ্রুপ ও ‘মারিওট হোটেলস্’ গ্রুপ। এদের নানা নামে প্রচুর হোটেল আছে। ডবলবেড একটি রুমের এক রাতের ভাড়া ২৫০ ডলারের মধ্যে। বিশদ জানতে www.hiltonfamilynewyork.com  হিলটন গ্রুপের জন্য, www.mariott.com মারিওট গ্রুপের জন্য। হোটেলের ঠিকানা দেখবেন যেন ৩৯ তম স্ট্রিট থেকে ৫০ তম স্ট্রিটের মধ্যে এবং ৯ম অ্যাভিনিউ থেকে ৫ম অ্যাভিনিউ-র মধ্যে হয়। কারণ ‘টাইমস্ স্কোয়ার’ ৪৭ তম স্ট্রিটের ৭ম অ্যাভিনিউতে অবস্থিত।
এখানে একটু বলি হোটেল যাওয়ার পরেই হোটেলের একটি কার্ড ও শহরের একটি ম্যাপ সবার কাছে রেখে দিন। নিউ ইয়র্ক শহরটি অনেক সুপরিকল্পিত তাই যে  কোন জায়গা অতি সহজেই ম্যাপ দেখে খুঁজে বার করা যায়। গোটা শহরটাকে ৯২টি উলম্ব রাস্তা (অ্যাভিনিউ) ও ৯৯১টি অনুভূমিক রাস্তা (স্ট্রিট) দিয়ে ভাগ করা হয়েছে। সুতরাং স্ট্রিট নং ও অ্যাভিনিউ নং জানালেই যে কোন জায়গা অনায়াসেই খুঁজে পাওয়া যায়।
খাওয়াঃ- এখানে প্রায় সমস্ত দেশের খাবার পাওয়া যায়। স্থানীয় খাবার হিসেবে নিউ ইয়র্ক স্পেশাল পিৎজা খেয়ে দেখতে পারেন। যাদের খাওয়ার ব্যাপারে কিছু সমস্যা আছে তারা ‘ম্যাক ডোনাল্ড’, ‘কে.এফ.সি’ বা ইন্ডিয়ান রেস্তোরাঁ-তে খেতে পারেন। হোটেলে খোঁজ করলেই বলে দেবে। সকালের ব্রেকফাস্ট হোটেলেই পাবেন। যারা প্রকৃত হিন্দুত্ব বা ইসলামি বজায় রাখতে চান তাদের বলি এখানে সব কিছুর মাংস থাকে। তাই খাওয়ার আগে জিঞ্জাসা করে নেবেন। না হলে সবসময় চিকেন বেছে নিতে পারেন। উল্লেখযোগ্য ভারতীয় রেস্তোরাঁ- ‘উৎসব, ৪৭ তম স্ট্রিট ৬ষ্ঠ ও ৭ম অ্যাভিনিউর মধ্যে, এর পাশেই ‘মোহন প্লেস আই এন সি’।
জরুরিঃ- ১। নিউ ইয়র্ক যাওয়ার সময় কোনও বীজ, পচনশীল বস্তু, জীবজন্তু, আচার, চাল, গম ইত্যাদি নিয়ে যাবেন না এবং যাওয়ার আগের মুহুর্তে কোন প্রানী যেমন - কুকুর, বিড়াল এদের ধরবেন না। ছোঁয়াচে রোগ থাকা চলবে না। ফেরার সময়ে-ও একই নিয়ম।
২। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না। নির্দিষ্ট বিন-এ ফেলুন। না হলে ব্যাগে রাখুন, হোটেলে গিয়ে বিন-এ ফেলে দিন।     
৩। রাস্তা পারাপারের সিগনাল দেখে পার হন।
৪। সব রকম ওষুধ-পথ্য নিয়ে যাবেন। কারণ ওখানে ডাক্তারি খরচ প্রচুর।
৫। পাসপোর্ট খেয়াল করে রাখুন।
৬। চিৎকার চেঁচামেচি করবেন না।
৭। নির্দিষ্ট ফুটপাথ দিয়ে হাঁটুন।
৮। আমেরিকান ইংরেজি বোঝা একটু কঠিন। তাই কিছু বুঝতে না পারলে আবার বলতে অনুরোধ করুন ও মন দিয়ে শুনুন।
৯। যে কোনও তথ্য জানতে হোটেল কর্ত্তৃপক্ষের সাহায্য নিন।
শহর সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ-
নামঃ- নিউ ইয়র্ক
রাজ্যঃ- নিউ ইয়র্ক
দেশঃ- আমেরিকা
সংক্ষিপ্ত নামঃ- NY
সময় অঞ্চলঃ- GMT ৫ ঘন্টা বা ৪ ঘন্টা (ডে লাইট সেভিং)
সময় ব্যবধানঃ- ভারতের থেকে সাড়ে নয় ঘন্টা পিছিয়ে।
প্রধান ভাষাঃ- আমেরিকান ইংরেজি
মুদ্রাঃ- ডলার (এক ডলার-৪৫ টাকা প্রায়)
আবহাওয়াঃ- মূলত শীতপ্রধান জায়গা। শীতে সর্বনিম্ন -৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গ্রীষ্মে সর্ব্বোচ্চ +৩৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। বিশদ জানতে দেখুন- www.in.weather.com
[সমস্ত তথ্য ২০১১ সালের জুন মাসের ভিত্তিতে দেওয়া। সময়ের ব্যবধানে কিছু তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।]
(তথ্য সহায়তাঃ কৌশিক মোদক)

নায়াগ্রা জলপ্রপাত (Niagara Falls): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যের উত্তর-পশ্চিমে এবং কানাডার অন্টারিও প্রদেশের দক্ষিণ- পূর্বে অবস্থিত পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জলপ্রপাত বিশ্ববিখ্যাত নায়াগ্রা দেখতে প্রতিবছর পৃথিবীর নানান প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভিড় জমান। প্রায় বারো হাজার বছর আগে সৃষ্ট নায়াগ্রা চিরযৌবনা।
আমেরিকান ফলস্, ব্রাইডাল-ভেইল ফলস্ এবং হর্সস্যু ফলস্ বা কানাডিয়ান ফলস্ – এই তিনটি জলপ্রপাত একত্রে নায়াগ্রা নামে পরিচিত। প্রসপেক্ট পয়েন্ট ও লুনা দ্বীপের মাঝে আমেরিকান ফলসটি নায়াগ্রা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ১৬৫ ফুট নীচে। ব্রাইডাল-ভেইল ফলস্ অবস্থিত লুনা দ্বীপ ও গোট দ্বীপের মাঝখানে। আর গোট দ্বীপ ও টেবল রকের মাঝে রয়েছে হর্সস্যু ফলস্ বা কানাডিয়ান ফলস্।
জলপ্রপাতকে কাছ থেকে দেখার সেরা উপায় 'মেইড্ অফ্ দ্য মিস্ট' বোট রাইড। কানাডা এবং নিউইয়র্ক উভয় দিক থেকেই এই বোটভ্রমণ করা যায়। নায়াগ্রা নদীর বুকে ফেরিতে উঠে পৌঁছে যাওয়া যায় আমেরিকান ফলস্ ও ব্রাইডাল-ভেইল ফলস্-এর একেবারে কোলের কাছে। এত কাছ থেকে সুবিশাল এই জলপ্রপাতকে দেখা এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এই রাইডে চড়তে প্রাপ্তবয়স্কদের মাথাপিছু কুড়ি ডলার মতো এবং ছয় বছরের অধিক বয়সের শিশুদের সাড়ে বারো ডলারের কিছু বেশী পড়ে। একেবারে কাছ থেকে নায়াগ্রাকে অনুভবের আরেক উপায় 'কেভ অফ দ্য উইন্ডস্'। ব্রাইডাল ফলস্-এর পিছনের দিকের গুহা কেটে তার উপর দিয়ে সিঁড়ি বানিয়ে ফলস্ এর সামনে দিকে একটা ডেক এর মত জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে ফলসটাকে সামনের থেকে দেখা ও তার সাথে কালবৈশাখী ঝড়ের মত জলপ্রপাত-এর দমকা বাতাস অনুভব করা সেও আর এক দারুণ অভিজ্ঞতা।
নায়াগ্রাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে প্রচুর হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাসিনো, নাইট ক্লাব ও নানান ভ্রমণ ও বিনোদনের আয়োজন। এখানেই রয়েছে পৃথিবীর বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটিও। নায়েগ্রার কাছাকাছি দ্রষ্টব্য স্থানের মধ্যে রয়েছে, হ্যাপি রলকস্ বার্ড স্যাংচুয়ারি – নায়াগ্রা প্রপাত থেকে মাত্র কুড়ি মিনিটের দুরত্বে ১৫ একর জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে গাছগাছালিতে ঘেরা এই পার্কটি।
মর্নিং স্টার মিল এবং মাউন্টেন মিলস মিউজিয়াম – অন্টারিও-র এই প্রাচীন ময়দার কলটি এখনো চালু অবস্থায় আছে। আগ্রহী পর্যটকরা ঐতিহাসিক এই মিলটিতে ঘুরে ঘুরে কারখানার কাজকর্ম দেখতে পারেন। এই মিলটি সম্পূর্ণভাবে জলবিদ্যুত দ্বারা পরিচালিত। লুক্ ক্যারুজেল – পোর্ট ডালহাউসির কাছে লেক পার্কে অবস্থিত এই শিশু উদ্যানটিতে রয়েছে হাতে খোদাই করা প্রাচীন মেরি গো রাউন্ডের মতো বিভিন্ন বিনোদনের উপকরণ।
ওয়েল্যান্ড ক্যানালস্ সেন্টার – এই ডেক থেকে নায়াগ্রার সর্ববৃহৎ ওয়েল্যান্ড ক্যানালে আসা বড় বড় জাহাজগুলিকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। এর কাছেই সেন্ট ক্যাথরিন মিউজিয়াম এবং অন্টারিও লা ক্রস হল অফ ফেম।
নায়াগ্রা গ্লেন নেচার এরিয়া – প্রায় আটহাজার বছরের প্রাচীন প্রাকৃতিক খেয়ালে গড়ে ওঠা এই অরণ্যে ঘন গাছপালার মধ্যে দিয়ে পায়ে হেঁটে হাইকিং করার সময় কানে আসবে পাখপাখালির সুরেলা ডাক।
নায়াগ্রা পার্ক বোটানিকাল গার্ডেন – নায়াগ্রা পার্কওয়ে থেকে দশ মিনিটের হাঁটা পথে পড়বে নিরানব্বই একর জমি ঘিরে গড়ে ওঠা এই সুন্দর উদ্যানটি। এখানে প্রায় আড়াই হাজার রকমের গোলাপের চাষ হয়। গোলাপ ছাড়াও আরও নানান গাছগাছালির দেখা মিলবে সাজানোগোছানো এই উদ্যানে। বাটারফ্লাই কনজারভেটরিতে সংরক্ষিত রয়েছে নানান প্রজাতির প্রজাপতি।

ভ্রমণ কাহিনি - নৈসর্গিক নায়াগ্রা || সুন্দরী নায়াগ্রা || আকাশ ভরা জল - স্মৃতির নায়াগ্রা ||

 

Album

  • To view this site correctly, please click here to download the Bangla Font and copy it to your c:\windows\Fonts directory.

    For any queries/complaints, please contact admin@amaderchhuti.com
    Best viewed in FF or IE at a resolution of 1024x768 or higher