Home Page
Current Issue
Archive
Travel Plans
Trekking Routemap
Tips
Explore
Rail
Air travel
Other Websites

Feedback




hit counters
hit counter

জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu & Kashmir)

 

সম্রাট অশোকের কালে ফিরে গেলে, যীশুর জন্মের ৩০০ বছর আগের কোনও একটা সময়কে দেখায় ইতিহাস। মেয়ে চারুমতীকে নিয়ে এটা তাঁর ধর্মযাত্রার সময়। ভারতবর্ষের উত্তরতম এই অঞ্চলে যখন তাঁরা এসে পৌঁছোলেন তখন চারুমতী পাহাড়িয়া সরোবরের সৌন্দর্যে বিহ্বল। এখন ডাললেকের পশ্চিমে যে হরিপর্বত আছে, তারই পাদদেশে বৌদ্ধবিহার গড়া হল। তারপর তাকে ঘিরে ক্রমশ বিস্তারলাভ করল সেকালের বৌদ্ধজনপদ অশোকের পানদেথ্রান। পরবর্তীকালে এরই নাম শ্রীনগর। আর তাকে ঘিরেই গোটা কাশ্মীর উপত্যকার সেজে ওঠা।

ভ্রমণ কাহিনি – || কাশ্মীর – পঞ্চাশ বছর আগে || স্বর্গ দর্শন || ভয়ঙ্কর পেরিয়ে ভূস্বর্গে || কাশ্মীরের পথে পথে ||

শ্রীনগর (Srinagar)- একপাশে সুলেমান পাহাড়ের মাথায় আদিগুরু শংকরাচার্যের মন্দির অন্যদিকে ডাললেকের বিস্তার। আসলে বিতস্তা নদীর দুপাশ জুড়েই প্রাচীন এই জনপদটির বেড়ে ওঠা। কাশ্মীর যে কতটা সুন্দর, তার পাহাড়ের রং কত ভিন্নতর সেটা এখানে না এলে বোঝা যায়না। শ্রীনগরের মধ্যমণি ডাললেকে গোটা একটা দিন কেটে যাবে শিকারায় ভেসে। ২৬ বর্গ কিলোমিটারের জল-দুনিয়ার একপাশ জুড়ে ভাসমান নৌকাঘর যার অন্য নাম হাউসবোট আর তাদের বিলাসী হাতছানি। খুব ভোরে উঠে শিকারা চেপে ফ্লোটিং মার্কেট। ফ্লোটিং গার্ডেন, বোট ভিলেজ, চারচিনার, নেহরু পার্ক ঘুরে দেখা। একটু সময় নিয়ে নাগিন লেকটাও ঘুরে আসা যায়। তারপর জলদুনিয়া ছেড়ে শ্রীনগরের রাস্তায়। একটা গাড়ি ভাড়া করে সারাদিনের চুক্তিতে প্রথমে বিখ্যাত হজরতবাল দরগা, নূরজাহানের পাত্থর মসজিদ, জামিয়া মসজিদ, হামদান মসজিদ ইত্যাদি। তারপর গাড়ি ছুটবে মুঘল গার্ডেনের দিকে। এপথে প্রথম দ্রষ্টব্য চশমাশাহি, এই উদ্যানের মাঝবরাবর যে ঝরনা বয়ে গিয়েছে-শোনা যায় তার জলে ওষধিগুণ আছে। চশমাশাহির কাছেই পরিমহল। প্রাচীন বৌদ্ধমঠে পরবর্তীকালে সম্রাট শাহজাহানের জ্যেষ্ঠপুত্র দারাশুকো জ্যোতিষচর্চার কেন্দ্র গড়ে তোলেন। নিশাতবাগ - পাহাড়ের গায়ে ৭টি ধাপে গড়ে ওঠা আরও একটা মুঘল গার্ডেন। চিনার, আপেলগাছের ফোটোজেনিক লুক আর ফুলের জলসায় পা রেখে একবার মনে পড়বে নূরজাহানের কথা। নূরজাহানের ভাই আসফ খাঁ ঝরনাঘেরা এই বাগান গড়েন। শালিমারবাগ অবশ্যই দ্রষ্টব্য। সম্রাট জাহাঙ্গির নূরজাহানের জন্য এই বাগিচা গড়ে তুলেছিলেন।
যাওয়াঃ- ট্রেনে জম্মু পৌঁছে, সেখান থেকে সড়কপথে বানিহাল পেরিয়ে সরকারি বাস অথবা ভাড়ার গাড়িতে ৩০০ কিলোমিটার দূরের শ্রীনগর। ট্রেনে বা বিমানে দিল্লি পৌঁছে দিল্লি থেকে শ্রীনগরগামী বিমান ধরতে হবে। থাকাঃ- হাউসবোটে বা বেসরকারি হোটেলে থাকা যায়। শ্রীনগরের এস টি ডি কোডঃ ০১৯৪।
গুলমার্গ (Gulmarg)- শ্রীনগর থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার। তাংমার্গের পর পাহাড়িয়া পথ। তারপর রাস্তার একপাশ জুড়ে সবুজ জমির বিস্তার। গলফকোর্সটি পৃথিবীর অন্যতম উঁচু গলফ খেলার মাঠ - কাছেদূরে পাইনবনের সারি। পায়ে পায়ে মহারাজার প্রাসাদ, রানিমন্দির, সেন্ট মেরি গির্জাঘর, চিলড্রেন পার্ক ইত্যাদি দেখা। ২,৭০০ মিটার উচ্চতার কাশ্মীরি বরফদুনিয়ায় এসে সম্রাট জাহাঙ্গিরও মুগ্ধ হয়েছিলেন। নতুন দেখা এই প্রকৃতিকে ভূস্বর্গ বলেই চিহ্নিত করেন তিনি। গুলমার্গ ভারতের প্রথম স্কি রিসর্টও বটে। ব্রিটিশদের তত্ত্বাবধানে ১৯২৭-এ শুরু। তবে গুলমার্গে বেড়াতে এলে ঘোড়াওয়ালাদের সঙ্গে ভালো করে দরদাম করে তবেই ঘোড়া ভাড়া করা উচিত। এছাড়া আছে রোপওয়ে। প্রথমে গুলমার্গ থেকে আট মিনিটে কনডোরি তারপর সেখান থেকে ২০ মিনিটে আফারওট। গুলমার্গকে উপভোগ করার জন্য কেবলকারে চড়ে চলে আসতে হবে কনডোরি। সেখান থেকে ঘোড়ায় চড়ে খিলানমার্গ। রোপওয়ের শেষবিন্দু আফারওটে পৌঁছোনো মানে বরফ চাদরে ইচ্ছেখুশি গা ভাসানো। কারাকোরাম এখান থেকেই দৃশ্যমান।
যাওয়াঃ- শ্রীনগর থেকে গাড়ি নিয়ে একদিনের ট্যুরে বেড়িয়ে নেওয়া যায়। দূরত্ব ৫৫ কিলোমিটার।
থাকাঃ- জে.কে. ট্যুরিজমের ট্যুরিস্ট হাট ও বেসরকারি হোটেল। গুলমার্গের এস টি ডি কোডঃ ০১৯৫৪।
যুসমার্গ (Yushmarg)- শ্রীনগর থেকেই যেতে হয়। শোনা কথা, স্বয়ং যীশু সেই উপত্যকার পথে হেঁটে গিয়েছেন। চারপাশে তার কারাকোরামের হিমানী। এই প্রবাসপথের গ্রামে নাশপাতি, আপেলের বাগান আর পপি ফুলের রংবরষা। যুসমার্গ যাওয়ার পথেই চারার-এ-শরিফ। প্রাচীন, বহু ঘটনার সাক্ষী। সুফিসাধক নুরউদ্দিন নুরানির পবিত্র সমাধির উপর এই মসজিদ গড়া গয়েছিল। কাশ্মীরের সুলতান জইন-উল-আবেদিনের কাঠপাথরের অনবদ্য স্থাপত্যকীর্তির সেই মসজিদ ১৯৯৫-এ প্রায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার নতুন করে সেজেছে চারার-এ-শরিফ। তারপর সোজা যুসমার্গ। রাজ্য পর্যটনের কাফেটেরিয়ায় কিছুক্ষণ সময় কাটিয়ে ঘোড়সওয়ারি। সবুজ-মাঠ-প্রান্তর, উপত্যকা পেরিয়ে যাওয়া একনিমেষে। ইচ্ছেখুশির পালে হাওয়া লাগিয়ে ভিউপয়েন্ট পৌঁছোলে এই উপত্যকাটাই অন্য ছবি হয়ে ধরা দেয়। এখান থেকে ঘন্টাতিনেকের ঘোড়সওয়ারি করে নীলনাগ কিংবা হলড্যাম বা সামনারি।
যাওয়াঃ- শ্রীনগর থেকে যুসমার্গ প্রায় ৫০ কিলোমিটার। শ্রীনগর থেকে চারার-এ-শরিফ ৩০ কিলোমিটার।
থাকাঃ- যুসমার্গে জে.কে. ট্যুরিজমের ট্যুরিস্ট হাট।
মানসবল আর উলার লেক (Manasbal & Ular Lake)- শ্রীনগর থেকে এক সকালে ভাড়ার চুক্তিতে গাড়িতে চেপে বসা। প্রথম গন্তব্য ক্ষীরভবানী। নাগিন লেকের পাশবরাবর রাস্তা চলে গেছে। পপলার গাছের মিছিলে মিশে থাকে রাস্তা। মন্দিরটি শ্বেতপাথরের, গর্ভগৃহে দেবীর কষ্টিপাথরের মূর্তি, লাল কাপড়ে ঢাকা। একপাশে পবিত্র কুণ্ড। স্বামী বিবেকানন্দ কাশ্মীর যাত্রাকালে এখানে এসেছিলেন। চিনার গাছের ছায়াঘেরা মন্দিরচত্বর সব মিলিয়ে বেশ সুন্দর। তবে সবটাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দি। ক্ষীরভবানী দেখে মানসবল লেক। ভারতসম্রাট শাহজাহানের মেয়ে রোশনারার পছন্দের সরোবর, একপাশে বাগিচাও আছে। ইচ্ছে হলে আধঘন্টার শিকারাভ্রমণ-তাও সম্ভব। তারপর দ্বিতীয় গন্তব্য উলার। উচ্চতা ১,৫৮০ মিটার। এটি ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের লেক। উলার লেকের জলেও নৌকাভ্রমণ করা যায়। দেখে নিন দ্বীপমধ্যের মসজিদ আর শুকরুদ্দিন দরগা। পাহাড়ি পার্কটিও বেশ সাজানো সুন্দর।
পহেলগাঁও (Pahelgaon)- পাইন, ফার, উইলো, আখরোটের দেশে নদীর নাম লিডার। উচ্ছল, চিরযুবতি - রূপকথার দেশ পহেলি গাঁওয়ের জীবনরেখা। শ্রীনগর থেকে চলতিপথে প্রথমে পামপোর পড়বে। ওখানে জাফরানের চাষ হয়। অবন্তীপুরায় উইলো কাঠের ব্যাট তৈরি, সেও এক বিরাট কারখানা। আর আছে ভাঙা অবন্তীস্বামী বিষ্ণুমন্দির। তারপর সরাসরি পহেলগাঁও। মাঝে অনন্তনাগ পড়বে। পহেলগাঁওয়ে পার্কের ছড়াছড়ি। অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, নেচার পার্ক, ক্লাব পার্ক ইত্যাদি। এ শহরের আশেপাশের অন্যান্য দ্রষ্টব্যগুলি হল ১২ শতকের মামল্লেশ্বর শিবমন্দির, বৈশরণ, কাশ্মীর ভ্যালি, স্নো পয়েন্ট ইত্যাদি। বৈশরণসহ কাশ্মীর ভ্যালি কিংবা স্নো পয়েন্ট যাবার জন্য ঘোড়া ভাড়া করতে হবে।
পহেলগাঁও থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের ছোট্ট একটা গ্রাম - আরু। নীল আকাশের নীচে ওই বরফমোড়া পাহাড়, সবুজ উপত্যকা জুড়ে ভেড়ার পালের ইতিউতি ঘোরাফেরা, ঝরনা ঝোরার ফোটোলুকে বিভোর হতে হলে ২,৬০০ মিটার উচ্চতার আরু অবশ্যগন্তব্য। সারাদিনের চুক্তিতে পহেলগাঁও থেকে গাড়ি ভাড়া করতে হবে। যাওয়াঃ- শ্রীনগর থেকে পহেলগাঁও প্রায় ৯৮ কিলোমিটার। জে.কে. ট্যুরিজমের বাসে একদিনের ট্যুরে পহেলগাঁও বেড়িয়ে শ্রীনগর ফিরে আসা যায়। গাড়ি ভাড়া করেও যাওয়া যায়।
থাকাঃ- পহেলগাঁওয়ে রয়েছে জে.কে. ট্যুরিজমের ট্যুরিস্ট হাট । পহেলগাঁওয়ের এস টি ডি কোডঃ ০১৯৩৬। 

অমরনাথ গুহা (Amarnath Cave) - পৌরাণিক মতে পার্বতীকে সৃষ্টির গোপন রহস্য বোঝাতে এক নির্জন পাহাড়ের গুহা বেছে নেন দেবাদিদেব মহাদেব। ৩৮৮০ মিটার উচ্চতায় পাহাড়ের কোলে হিন্দুতীর্থ অমরনাথ গুহা। গুহায় পাহাড়ের ফাটল দিয়ে চুঁইয়ে পড়া জল জমে বরফ হয়ে লিঙ্গের আকার নেয়। কখনো কখনো ৮-১০ ফুট উঁচুও হয় এই লিঙ্গ। তবে গত কয়েকবছর ধরেই তাড়াতাড়ি বরফলিঙ্গ গলে যাচ্ছে যা হয়তো উষ্ণায়নের ফল। জুন-জুলাই মাসে শ্রাবণী পূর্ণিমা থেকে শুরু হয় অমরনাথ যাত্রা। শেষ হয় জুলাই-আগস্ট মাসে গুরু পূর্ণিমার সময় ছড়ি মিছিলে। জাতিধর্ম নির্বিশেষে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই অমরনাথ যাত্রায় যোগদান করেন। যাওয়াঃ-পহেলগাঁও থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে চন্দনবাড়ি (Chandanbari)। বাস, জিপ, টাটাসুমো যাচ্ছে এই পথে। চন্দনবাড়ি থেকে ৩২ কিলোমিটার দূরে অমরনাথ গুহা। এই পথ হেঁটে, ঘোড়ায়, ডান্ডি বা কান্ডিতে পেরোতে হবে। প্রথম দিন পিসু টপ হয়ে শেষনাগে বিশ্রাম। দ্বিতীয় দিনে মহাগুণাস পাস পেরিয়ে পঞ্চতরণীতে থামা। তৃতীয় দিনে সন্তসিং টপ পেরিয়ে অমরনাথ পৌঁছানো। অন্যপথে সোনমার্গ, বালতাল হয়ে এক দিনেই অমরনাথ যাওয়া যায়, তবে চড়াই অনেক বেশি।

অমরনাথ ট্রেকরুট ম্যাপ দেখুন এখানে

প্রয়োজনীয় তথ্য :-
যাত্রার সময় :- প্রতি বছর জুন মাসের শেষ নাগাদ অমরনাথ যাত্রার সুচনা হয়। উচ্চ হিমালয়ের ওই অংশের সে বছরের তুষার পাতের আধিক্যের ওপর নির্ভর করে অমরনাথ যাত্রার সময়। যাত্রার শেষ হয় অগস্ট মাসের মাঝামাঝি অর্থাৎ রাখী পূর্ণিমা পর্যন্ত। এছাড়া বছরের অন্য সময় এই পথে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি নেই।
থাকা-খাওয়াঃ থাকার জায়গাগুলিতে পি.ডব্লু. ডি. রেস্টহাউস আছে। অমরনাথ যাত্রার সময় অস্থায়ী যাত্রীনিবাস গড়ে ওঠে। এই সময় পহেলগাঁও, শেষনাগ, পঞ্চতরণী ও অমরনাথ গুহার কাছে থাকার জন্য তাঁবু ভাড়া পাওয়া যায়। এছাড়া অন্য পথে বালতালেও যাত্রীদের জন্য বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে তাঁবুর ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রা পথে অনেক ভান্ডারা পাওয়া যায় যেখানে সম্পূর্ণ নিখরচায় নিরামিষ খাবার পাওয়া যায়। সরকারি রেশন ব্যবস্থায় চাল-ডালও মেলে। কোথাও কোথাও সেনাবাহিনীর তরফ থেকে গরম পানীয় জল সরবরাহ করা হয়।
জরুরিঃ- অমরনাথে যাওয়ার জন্য আগে প্রত্যেক যাত্রীর রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড (SASB) যাত্রা শুরুর মোটামুটি মাসতিনেক আগে যাত্রা শুরুর ও শেষের তারিখ ঘোষণা করে। জম্মু -কাশ্মীর ব্যাঙ্ক থেকে ফর্ম সংগ্রহ করতে হবে। ভরতি করা ফর্মটি ২টি পাসপোর্ট ছবি ও শারীরিক সক্ষমতার ডাক্তারি শংসাপত্র সহ নিকটবর্তী জম্মু-কাশ্মীর ট্যুরিজমের অফিসে জমা দিতে হবে। প্রত্যেক যাত্রীকে যাত্রার আগে যাত্রা পারমিট সংগ্রহ করতে হবে। শ্রী অমরনাথ শ্রাইন বোর্ড নির্ধারিত মেডিকাল অফিসার ও মেডিকাল ইনস্টিটিউট থেকে কম্পালসারি হেলথ সার্টিফিকেট (CHC) নিতে হবে। এই যাত্রায় হেলথ চেক আপ বাধ্যতামূলক। এরপর ওই CHC নিয়ে জম্মু-কাশ্মীর ব্যাঙ্ক/পাঞ্জাব ব্যাঙ্ক/ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে সামান্য কিছু ( ১৫০ টাকা) টাকার বিনিময়ে যাত্রা পারমিট সংগ্রহ করা যায়। CHC সংগ্রহের পর সোজা জম্মু গিয়েও যাত্রা পারমিট সংগ্রহ করা যেতে পারে। যাত্রার সময় ৪ - ৫ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও সচিত্র পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতেই হবে। শ্রীঅমরনাথ শ্রাইন বোর্ডের ওয়েবসাইট হল: www.shriamarnathjishrine.com
খুঁটিনাটির তালিকা :- উচ্চ হিমালয়ের আবহাওয়া খুব খামখেয়ালি হবার কারণে গরম জামা কাপড়ের পাশাপাশি একটা বর্ষাতি হাতের কাছে রেখে দেওয়া ভাল। আর ভাল গ্রিপওয়ালা জুতোও জরুরি। পেট খারাপ, জ্বর, মাথাধরা, গা ব্যাথার ওষুধের পাশাপাশি কিছু ও.আর.এস.-এর প্যাকেট এবং চলতে চলতে হাঁপিয়ে গেলে ঘ্রাণ নেওয়ার জন্য সামান্য কর্পূর সঙ্গে রাখা দরকার। জম্মু-কাশ্মীরে কেবলমাত্র পোস্ট পেইড মোবাইল কানেকশন কাজ করে, এছাড়া পহেলগাঁও বা বালতালে গিয়েও বিশেষ "যাত্রা সিমকার্ড" নেওয়া যায়, যা সীমিত সময়ের (মোটামুটি সাত দিন) ও সীমিত অঞ্চলের জন্য কার্যকরী।

ভ্রমণ কাহিনি - অমরনাথের ডায়েরি || অমরনাথ দর্শন || অমরনাথের পথে


জম্মু (Jammu)- প্রাসাদ, দুর্গ আর মন্দির নিয়ে তাওয়াই নদীর তীরে প্রাচীন শহর জম্মু। টিলার ওপরে অবস্থিত বাহু দুর্গটি শহরের কাছে এলেই নজরে পড়ে। দুর্গের পাশেই সাজানো বাগান বাগ-এ-বাহু। অমরমহল প্রাসাদের স্থাপত্যশৈলী অসাধারণ। প্রাসাদের মিউজিয়ামটি অবশ্যদ্রষ্টব্য। সোমবার বন্ধ থাকে। রঘুনাথজির মন্দিরটি বিশেষ খ্যাত। এছাড়া শহর ও তার আশেপাশে বেশ কয়েকটি মন্দির ও দরগা আছে। এরমধ্যে লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির, পির-খো গুহামন্দির, পির বুধনশাহের দরগা, বাওয়েওয়ালি মাতার মন্দির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
বৈষ্ণোদেবী (Vaishnodevi)-সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের অধিষ্ঠাত্রী বৈষ্ণোদেবী। গুহামন্দিরে দেবীর তিন ভিন্ন রূপ দেখতে পাওয়া যায়। ডানদিকে মহাকালী, বামে মহাসরস্বতী ও মাঝে মহালক্ষ্মী। জম্মু থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরবর্তী কাটরা পর্যন্ত বাস ও ভাড়া গাড়ি চলে। শেষ ১৪ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে পৌঁছতে হয় মন্দিরে। যাঁরা হাঁটতে পারবেন না তাঁদের জন্য রয়েছে ডান্ডি ও ঘোড়ার ব্যবস্থা। কাটরা শহরের ট্যুরিস্ট রিসেপশন সেন্টার থেকে যাত্রা-স্লিপ অর্থাৎ ‘পরচি’ সংগ্রহ করতে হয়। পুজোর উপকরণ আর নগদ টাকা পয়সা ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে মন্দির চত্বরে প্রবেশ নিষেধ।
যাওয়াঃ- নিকটতম রেলস্টেশন জম্মু। জম্মু থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরবর্তী কাটরায় নিয়মিত বাস যাচ্ছে। জম্মু বা কাটরা থেকে হেলিকপ্টারেও বৈষ্ণোদেবী ঘুরে আসা যায়। জম্মু থেকে প্রতিদিন ২টি ও কাটরা থেকে ৫টি পবনহংস ফ্লাইট রয়েছে। জম্মু যাওয়ার আগে জেনে নিতে হবে উড়ান চালু আছে কিনা।
থাকাঃ- জম্মুতে থাকার জন্য নানা মানের ও দামের অসংখ্য হোটেল রয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ট্যুরিজমের হোটেলও আছে। জম্মুর এস টি ডি কোডঃ- ০১৯১।
পাটনিটপ (Patnitop)-প্যালেটের মায়াবী সবুজ রঙ পাইন-দেওদার বনের মাথায় ঘন হয়ে জমে উঠেছে। অদেখা শিল্পীর তুলির টানে সেই সবুজ হালকা হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে তৃণভূমির বিস্তীর্ণ ক্যানভাসে। পেছনে তুষারঢাকা পিরপাঞ্জালের শান্ত রূপ।
জম্মু থেকে শ্রীনগরের পথে ১১২ কিলোমিটার দূরে ২,০২৪ মিটার উচ্চতায় নির্জন শৈলাবাস পাটনিটপ। জম্মু থেকে কাটরা হয়ে ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে বাস যাচ্ছে। জম্মু বা কাটরা থেকে পাওয়া যাবে ভাড়া গাড়িও। ‘পাতান দা তালাব’ অর্থাৎ রাজপুত্রদের পুকুর। গল্পকথা, এখানকার হ্রদে একসময় স্নান করতে আসতেন রাজপুত্রেরা। তার থেকেই ‘পাটনিটপ’ নাম। শীতে বরফে ঢেকে যায় সবুজের আঁচল। আপেলের লাল আভায় কিশোরী হয়ে ওঠে সে। পাটনিটপ থেকে আরও ৮ কিলোমিটার এগিয়ে ‘সুদ মহাদেব’। একটি ত্রিশূল ও একটি দণ্ড এখানকার উপাস্য দেবতা। দণ্ডটি নাকি পাণ্ডবভ্রাতা ভীমের-স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস। সুদ মহাদেবের কাছেই গৌরীকুণ্ড। শ্রাবণী পূর্ণিমায় সুদ মহাদেবের পুজো দিতে দূর-দূরান্ত থেকে জড়ো হন ভক্তরা।
সানাসার (Sanasar)-পাটনিটপ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে আরেক নির্জন ঠাঁই সানাসার। সানাসার যাওয়ার পথে ৫ কিলোমিটার এগোলে মাথাটপ বা নাথাটপ। চারদিকে শুধুই তুষার। পশ্চিম হিমালয় আর নিম্ন শিবালিক রেঞ্জের বরফঢাকা পর্বতশৃঙ্গ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে। এখান থেকে পেছনে ফেলে আসা পাটনিটপকেও অসাধারণ লাগে। এই পথেই পড়বে ৪০০ বছরের প্রাচীন শঙ্খপাল নাগ মন্দির।
‘সানা’ আর ‘সার’-দুই হ্রদের নামেই নাম হয়েছে সানাসার। পাইন আর ফারের সবুজ চাদরে মোড়া সানাসার ছবির মতোই সুন্দর। ২,০৭৯ মিটার উঁচু কাপের মতো দেখতে এই তৃণভূমিকে ঘিরে রয়েছে তুষারশৃঙ্গ। দেখা মিলবে ভেড়ার দল নিয়ে গদ্দিদের। কাশ্মীরের প্রাচীন এই যাযাবর বাসিন্দাদের পশুচারণই জীবিকা। ট্রেকিং কিংবা প্যারাগ্লাইডিংয়ের মতো অ্যাডভেঞ্চারের পাশাপাশি পাটনিটপ আর সানাসারে রয়েছে অবসর কাটানোর জন্য গল্‌ফ খেলার ব্যবস্থা। পাটনিটপ-সানাসার থেকে বাটোট পেরিয়ে জওহর টানেল দিয়ে পথ গেছে শ্রীনগরের দিকে।
যাওয়াঃ- কাটরায় বাসে পৌঁছে সেখান থেকে বা জম্মু থেকেই গাড়ি ভাড়া করে পাটনিটপ ও সানাসার যাওয়া যায়। জম্মুর ট্যুরিস্ট রিসেপসন সেন্টারে যোগাযোগ করলে গাড়ি ভাড়া পাওয়া যাবে।
থাকাঃ-পাটনিটপে পর্যটনের অতিথিনিবাস ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। সানাসারে থাকতে হবে জম্মু-কাশ্মীর পর্যটনের বাংলোতেই।
  
লাদাখ(LADAKH)

কারগিল (Kargil)- লাদাখের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর। একসময় কারগিল ছিল বর্ধিষ্ণু জনপদ। একদিকে পশ্চিম এশীয় দেশ, অন্যদিকে আফগানিস্তান, চিন, এমনকী ইয়ারখন্দের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যপথের উপরেই কারগিল। প্রাচীনতম সিল্করুটের অন্যতম ট্রানজিট পয়েন্ট। এপথে তখন হাতির দাঁত, কার্পেট, সিল্ক আর মূল্যবান রত্নের ব্যবসা বাণিজ্য চলত। প্রায় ২,৭০৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত কারগিল ইন্দো-পাক যুদ্ধের দৌলতে এখন বেশ পরিচিত নাম। কিন্তু এশহরের একটা অন্য ইতিহাস আছে, আর আছে নিজস্ব একটা সৌন্দর্য। শ্রীনগর-লে যাত্রাপথে প্রথম রাতের বিশ্রামস্থলও এই কারগিল। সুরু নদী আর ওয়াখানালার মিলনবিন্দুও এই প্রাচীন জনপদ।
কারগিল শহরের ঠিক উপরে, এক পাহাড়ে চড়তে পারলেই গোমা কারগিল। দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। সেখান থেকে কারগিল শহরটাকে পাখির চোখে দেখে নেওয়া যায়। সুরু নদী পার হয়ে পোয়েন গ্রাম। হাঁটতে হাঁটতে ওই গ্রামের মধ্য দিয়ে বাগি কুমিনির উপত্যকায় পৌঁছোলেই অসাধারণ শহরের ছবি দূর থেকে দেখা যায়। একেই হয়তো পিকচার পোস্টকার্ড বলে। পরদিন সকালে মুলবেক যাত্রা। কারগিল থেকে লে-র পথে প্রায় ৪২ কিলোমিটার। আসলে এটা প্রাচীন এক বৌদ্ধগ্রাম। প্রধান আকর্ষণ পাথর কেটে গড়া ৭ শতকের মৈত্রেয় বুদ্ধমূর্তি। মূর্তিটি প্রায় ৯ মিটার উঁচু। পাশের ৯০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যময় লামায়ুরু গুম্ফাটির (Lamayuru Gompa)দেওয়ালচিত্র এবং মূর্তির সাজসজ্জা নজর কাড়ে।
হলো-বার্ক পাহাড়ের মাথায় রাজা তাশি নামগিয়ালের দুর্গটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে তার কঙ্কালটুকু। অন্যদিনের জন্য বরাদ্দ থাকবে ইয়ারবালটাক আর পাশকুম। কারগিল থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে শুখা পাহাড়, পাথুরে প্রকৃতির মধ্যে ইয়ারবালটাক গ্রাম। সেখানে পাহাড় কেটে গড়া ৭ মিটার উঁচু বুদ্ধমূর্তির অবস্থান। লে জাতীয় শহর ধরে আরও এগোলে পাশকুম, ঐতিহাসিক এক গ্রাম। এখন প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই, তবু অবশ্যদ্রষ্টব্য।
কারগিল থেকে ২৪০ কিলোমিটার দূরে জাঁসকর উপত্যকার (Zanskar Valley) সদর শহর পাদুম (Padum)। ট্রেক করে বা ঘোড়া-ইয়াকের পিঠে চেপে পাড়ি দেওয়া যায় পাদুম। অপরূপ নৈসর্গ আর প্রাচীন বৌদ্ধ গুম্ফাগুলি এখানকার আকর্ষণ। বছরের বিভিন্ন সময় জাঁসকরবাসিরা মেতে ওঠেন নানা উৎসবে।
যাওয়াঃ- শ্রীনগর থেকে কারগিল ২০৪ কিলোমিটার। কারগিল, শ্রীনগর-লে জাতীয় সড়কের উপর পড়ে। শ্রীনগর থেকে গাড়ি ভাড়া করে যেতে হবে।
থাকাঃ- কারগিল ও জাঁসকরে জম্মু-কাশ্মীর পর্যটনের ট্যুরিস্ট বাংলো আছে। কারগিলের এস টি ডি কোডঃ- ০১৯৮৫।
দ্রাস (Dras)- ৩,২৩০ মিটার উচ্চতায় পৃথিবীর দ্বিতীয় শীতল অঞ্চল। শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কারগিল থেকে ৬০ কিলোমিটার। শ্রীনগর থেকে প্রায় ১৪৭ কিলোমিটার। শীতকালে জোজি লা পাসের ওপর দিয়ে বরফপথে পারাপার করার বিশেষ দক্ষতা স্থানীয়দের সহজাত। তাই প্রাচীন বাণিজ্যপথে সেকালে প্রধান কাণ্ডারি হতেন দ্রাসের অধিবাসীরা। তাঁরাই প্রধান মালবাহকের কাজ করতেন। কারগিল থেকে ফিরতিপথে হিন্দু পুরাণের অন্যতম পীঠস্থান দ্রৌপদী কুন্ডে যেতে হবে। লোকবিশ্বাস, দ্রৌপদী আজও এখানে স্নানে আসেন। দ্রাস থেকে ৫ কিলোমিটার এগোলে ভীমবাত। মহাকাব্যের বীর চরিত্র মহাভারতের ভীম এখানে পাথরে পরিণত হয়েছেন। বিশ্বাসী মানুষেরা পুজো দেন এখানে। তারপর সোজা যুদ্ধক্ষেত্রে। টাইগার হিল, টলোলিং-এর মতো দুর্গম পাহাড়ে শত্রুশিবির-বাঙ্কার, আর নীচে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন জাতীয় সড়্ক। নিরাপত্তা আর মাতৃভূমিকে রক্ষা করার তাগিদে কতও বীর জওয়ান প্রাণ দিয়েছেন এখানে। তাঁদের স্মৃতিতে গড়া ওয়ার-মেমোরিয়াল অবশ্য দ্রষ্টব্য।
জম্মু-কাশ্মীর পর্যটন এখন কারগিল-দ্রাস-এর লাদাখি সংস্কৃতির একেকটি সমৃদ্ধশালী গ্রাম দর্শনের জন্য নতুন সার্কিট ট্যুরের ব্যবস্থা করেছে। বাটালিক-দারচিকস-গেরকোন-দা-খালাসি-লে এবং খংরাল-চিকতান-শাকার-সানজক-লে এই দুটি অসাধারণ ট্র্যাভেল সার্কিট। 
যাওয়াঃ- শ্রীনগর থেকে কারগিলের পথে যে বাস যাচ্ছে, সেই বাসেই দ্রাস পৌঁছোনো যায়। কারগিল থেকে লোকাল মিনিবাস যাতায়াত করে। শ্রীনগর থেকে কারগিল বেড়িয়ে দ্রাস হয়ে ফিরে যাওয়া যেতে পারে। লে হয়ে ফিরলে শ্রীনগর-দ্রাস-কারগিল-লে এই রুট বেছে নেওয়া যায়। শ্রীনগর থেকে দ্রাসের দূরত্ব প্রায় ১৪৭ কিলোমিটার।
থাকাঃ- ছোট্ট শহর দ্রাসে জম্মু-কাশ্মীর পর্যটনের হোটেল আছে। 
লে (Leh)- ৩,৫০৫ মিটার উচ্চতায় লাদাখের সদর শহর লে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, সাইবার কাফে, নানারকম দোকানপাট সবমিলিয়ে বেশ জমজমাট শহর। শহর ও তার আশেপাশের দ্রষ্টব্যগুলি বেড়িয়ে নিতে পুরো একটা দিন লাগবে।
সপ্তদশ শতকে রাজা সেংগে নামগিয়ালের আমলে তৈরি হয়েছিল লে প্রাসাদ। প্রাসাদ থেকে চার কিলোমিটার ওপরে রাজা তাশি নামগিয়ালের নির্মিত সেমো দুর্গ। গেলুক পা বা হলুদ টুপি সম্প্রদায়ের শঙ্কর গুম্ফায় এগার মাথা ও একহাজার হাত বিশিষ্ট অবলোকিতেশ্বর মূর্তিটি দর্শণীয়। গুম্ফার কাছে পাহাড়ের মাথায় শান্তিস্তুপ। ১৯৮৩ সালে এই বৌদ্ধ শান্তিস্তুপটি নির্মিত হয়েছিল। শান্তিস্তুপ চত্ত্বর থেকে নীল আকাশের নীচে বরফে ঢাকা শৃঙ্গরাজি আর সবুজ উপত্যকা নয়নমনোহর। শান্তিস্তুপের কাছে গিয়ামসা গ্রামে রয়েছে প্রাচীন তিসেরু স্তুপ।
লে-শ্রীনগর সড়কপথে ৬ কিলোমিটার দূরে লে মিউজিয়াম। মিউজিয়াম থেকে আরও ২ কিমি এগিয়ে স্পিতুক গুম্ফা। নয় মাথা কালীমূর্তিটি এই গুম্ফায় বিশেষ দ্রষ্টব্য।
লে-মানালি সড়কপথে চোগলামসারে সিন্ধুনদ পেরিয়ে পৌঁছানো ২০০ বছরের প্রাচীন স্তোক প্রাসাদে। প্রাসাদের মিউজিয়ামে অতীতের রাজারানির ব্যবহৃত পোশাক, গয়না, অস্ত্রশস্ত্র রাখা আছে।
লে থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের মাথায় প্রায় ৩৫০ বছরের প্রাচীন শ্যে প্রাসাদ ও গুম্ফা। শ্যে গুম্ফায় ২৫ ফুট উঁচু একটি বুদ্ধমূর্তি রয়েছে। শ্যে থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে ১২ তলার থিকসে গুম্ফা।
লে থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে সিন্ধুদর্শন ঘাট। সিন্ধুর এই ঘাটেই প্রতিবছর সিন্ধুদর্শন উৎসব উদ্‌যাপিত হয়।
যাওয়াঃ- মানালি ও শ্রীনগর দু’দিক থেকেই গাড়িতে লে পৌঁছান যায়। শ্রীনগর থেকে লে-র দূরত্ব ৪৩৪ কিলোমিটার। শ্রীনগর থেকে শুরু করে সোনমার্গ, জোজিলা, দ্রাস পেরিয়ে ২০৫ কিলোমিটার দূরে কারগিলে বিশ্রাম। কারগিল থেকে লে ২২৯ কিলোমিটার। এই রাস্তাটি মে-জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত খোলা থাকে। মানালি থেকে লে-র দূরত্ব ৪৭৩ কিলোমিটার। মানালি থেকে রোটাং, কেলং, জিসপা, দারচা, সূরযতাল, বারালাচা-লা পেরিয়ে ২৩০ কিলোমিটার দূরে সারচুতে রাত্রিবাস।সারচু থেকে টাংলাংলা পেরিয়ে সিন্ধুনদের গা ঘেঁষে পথে পৌঁছান লে-তে। এই পথ জুন মাসের চতুর্থ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বর মাস অবধি খোলা থাকে।
দিল্লি, শ্রীনগর থেকে সরাসরি বিমানেও পৌঁছান যায় লে।
থাকাঃ- লে শহরে বিভিন্ন মান ও দামের প্রচুর বেসরকারি হোটেল আছে। লে-র এস টি ডি কোডঃ- ০১৯৮২।
প্যাংগং সো (Pangong Tso)- ১৪,০০০ ফুট উচ্চতায় চ্যাংচেনমো পর্বতমালায় ঘেরা এশিয়ার বৃহত্তম নোনা জলের হ্রদ প্যাংগং। এই সরোবরের ৪০ কিলোমিটার ভারতের আর বাকি ৯০ কিলোমিটার চিনের অন্তর্ভুক্ত। নীল-সবুজ সরোবরের জলে ভেসে বেড়ায় ব্রাহ্মণী হাঁস আর সিগালের দল। আরও ৭ কিমি এগিয়ে স্পাংমিক গ্রাম।
যাওয়াঃ- লে থেকে প্যাংগং-এর দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার। লে-মানালি পথে কারু থেকে বাঁদিকে রাস্তা গিয়েছে প্যাংগং-এর। সিন্ধুনদ পেরিয়ে ডানদিকের পথ পৌঁছেছে হেমিস (Hemis) গুম্ফায়। প্রতিবছর জুন মাসে এখানে বিখ্যাত হেমিস উৎসব হয়। প্যাংগং-এর পথে শকতি, জিংগরাল পেরিয়ে চাংলা পাস হয়ে আলথাক লেকে পৌঁছে রাতের বিশ্রাম নেওয়া যায়। চাংলা পাসের ওপরেই চাংলাবাবার মন্দির। আলথাক থেকে টাংসে গ্রাম পেরিয়ে ৩৪ কিলোমিটার রাস্তা উজিয়ে পৌঁছনো প্যাংগং-এ।
থাকাঃ- লুকুং, স্পাংমিকে প্রাইভেট গেস্ট হাউস, তাঁবু এবং টাংসে থেকে প্যাংগং-এর পথে প্যাংগং প্যানোরামিক ক্যাম্প রির্সট।

ভ্রমণ কাহিনি - || যেখানে ঢেউ ওঠে লবণ হ্রদে || স্বপ্নের লাদাখ || ভারতের উত্তরতম প্রান্তভূমিতে ||

নুব্রা (Nubra)- নুব্রা উপত্যকার বৃহত্তম জনপদ ও মহকুমা শহর দেসকিট (Deskit)। এখানকার প্রধান দ্রষ্টব্য ৬০০ বছরের প্রাচীন দেসকিট মনাস্ট্রি। সাদা বালির মরুভূমি হুণ্ডার(Hundar)। এখানে দু’কুঁজওলা উটের পিঠে মরু ভ্রমণ করা যায়।
যাওয়াঃ- লে থেকে নুব্রার দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার। এপথে গংলাস, সাউথ পুল্লু পেরিয়ে ৪৫ কিলোমিটার দূরে ১৮,৩৬০ ফুট উচ্চতায় বিশ্বের সর্বোচ্চ গাড়ি চলার পথ খারদুংলা (Khardungla)। খারদুংলা থেকে নর্থ পুল্লু পেরিয়ে শিয়ক নদীর তীরে দেসকিট।
থাকাঃ- দেসকিটে প্রচুর বেসরকারি হোটেল আছে। হুণ্ডারেও রয়েছে বেশ কয়েকটি গেস্টহাউস।
সো-মোরিরি (Tso Moriri)- রূপসী উপত্যকা রূপসুর বুকের মাঝে ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় সোমোরিরি লাদাখের আর এক বিখ্যাত হ্রদ। নীল-সবুজ জলে ভেসে বেড়ায় ব্রাহ্মণী হাঁস, বার হেডেড গুজ আর ব্রাউন হেডেড গাল। সরোবরের পশ্চাৎপটে লুংসের কাংড়ি আর চাংসের কাংড়ি তুষারশৃঙ্গ। এখান থেকে ট্রেকিং পথ গিয়েছে হিমাচলের কিব্বেরে। কাছেই কোরজোক গ্রামে রয়েছে কোরজোক মনাস্ট্রি
যাওয়াঃ- লে থেকে সোমোরিরির দূরত্ব ২২৫ কিলোমিটার। লে-মানালি সড়কপথে সিন্ধুনদকে ডাইনে রেখে চুমাথাং উষ্ণপ্রস্রবণ পেরিয়ে মাহে ব্রিজ। মাহে ব্রিজে রাস্তা দু’ভাগে ভাগ হয়েছে। একটি রাস্তা গেছে সোমোরিরির দিকে। মরুসদৃশ রূপসু উপত্যকায় চোখে পড়বে লাদাখের বুনো গাধা, মরু খরগোশ আর মারকট।
থাকাঃ- কোরজোক গ্রামে বেশ কয়েকটি গেস্টহাউস আছে।

~ ভ্রমণ কাহিনি - হিম মরুর নীল অতলে ~

আর্যগ্রাম (Aryagram)- দা, বিমা, হানু, দারবিক ও গারকুন - এই পাঁচটি গ্রাম নিয়ে আর্যগ্রাম। এরমধ্যে দা, বিমা আর হানুতেই পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। দা গ্রামটি পর্যটকদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। এখানে বাস করেন দর্দ জাতির মানুষেরা। এদের ভাষা নিনা। এঁরা প্রাচীন বনধর্ম পালন করেন। চাষবাসে এঁরা খুব পটু । আচার-আচরণ, চেহারা, সাজপোষাকে এখনও এঁদের মধ্যে বহুপ্রাচীন মধ্য এশিয়ার ঐতিহ্যই বিদ্যমান।
যাওয়াঃ- লে থেকে শ্রীনগরের পথে ১৬৩ কিলোমিটার দূরে আর্যগ্রাম। লে থেকে নিমু পেরিয়ে সাসপোলে পথ দু’ভাগ হয়েছে। একটি পথ গেছে লিকির গুম্ফা ও অন্যটি আলচি গুম্ফার দিকে। আলচি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে খালসিতে পৌঁছে রাস্তা আবার দু’দিকে গেছে। একটি রাস্তা কারগিল হয়ে শ্রীনগর ও অন্যটি গেছে আর্যগ্রামে।
থাকাঃ- দা ও বিমা গ্রামে বেসরকারি হোটেল আছে। আর্যগ্রামের এস টি ডি কোডঃ- ০১৯৮২। 
কেনাকাটাঃ- কাশ্মীরের খ্যাতি হস্তশিল্পের জন্য। রেস্ত বেশি থাকলে কিনে ফেলা যায় অপরূপ কারুকার্যের কাশ্মীরি কার্পেট। নইলে কাশ্মীরি শাল বা শাড়ি তো রয়েইছে। কেনা যায় সূক্ষ্ম কাঠের কাজের আসবাব অথবা রুপো-তামার বাসনপত্র। উপরি সওদা কাশ্মীরি আপেল, আখরোট, চেরি, জাফরান বা মধু। 

 

Album

  • To view this site correctly, please click here to download the Bangla Font and copy it to your c:\windows\Fonts directory.

    For any queries/complaints, please contact admin@amaderchhuti.com
    Best viewed in FF or IE at a resolution of 1024x768 or higher